আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

স্মৃতির আলোয় মানবসেবা: ফারাজের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ১৩০০ মানুষ

বন্ধুত্বের খাতিরে প্রাণ দিয়েছিলেন ফারাজ আয়াত হোসেন। বন্ধুকে ছেড়ে না যাওয়ার সেই চরম ত্যাগের গল্প আজও অনেকের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। সেই মহৎ মানুষটির স্মরণে আজও তিনি বেঁচে আছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায়, আর সেই ভালোবাসারই এক অন্যরকম রূপ দেখা গেল আজ—তিনটি জেলায় আয়োজিত বিশাল এক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে।

ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পগুলোতে আজ প্রায় ১৩০০ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। ঢাকা হোলি আর্টিজানের সেই ভয়াল ১ জুলাইয়ের স্মৃতিকে পেছনে ফেলে, ফারাজের মানবিকতার আদর্শকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ফাউন্ডেশনটি, আর এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার গৌতমপাড়া ঘাতুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী চলে 'স্পেশালিস্ট হেলথকেয়ার ফর হিউম্যানিটি' নামের এই চিকিৎসা ক্যাম্প। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে প্রায় ৬০০ মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মামুনুর রশীদ, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হোসেন মাহবুব শিশির এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নুসরাত সিদ্দিকের মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা দিয়েছেন এখানে। স্থানীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিজের শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে আসা সুহিলপুরের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ফেরদৌসা আক্তার যেমন বলছিলেন, কোমরের ব্যথা আর হাতের ক্ষত নিয়ে অনেকদিন ধরেই কষ্ট পাচ্ছিলেন। এখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা আর ওষুধ পেয়ে তার চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। একই কথা শোনালেন ঘাতুরা গ্রামের স্মৃতি আক্তার। মাইকিং শুনে আসা এই নারী অ্যালার্জি ও মাথাব্যথার চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে ফিরলেন হাসিমুখে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কোলাহা এলাকার শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়েও বসেছিল একই রকম স্বাস্থ্য ক্যাম্প। সেখানে চিকিৎসা পেয়েছেন আরও ৪০০ রোগী। মেডিসিন থেকে শুরু করে সার্জারি, গাইনি, নাক-কান-গলা, দাঁত, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এমনকি বুকের রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও ছিলেন রোগীদের পাশে।

এদিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ডাবেরকুল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত ক্যাম্পে সেবা নিয়েছেন আরও ৩০০ জন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে এসে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ আবদুস সাত্তার। তিনি বলছিলেন, বয়স হয়েছে, নানা অসুখে শরীর জরাজীর্ণ। কিন্তু শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। এই ক্যাম্পটি তার মতো মানুষের জন্য যেন আশীর্বাদ হয়েই এসেছে।

ফারাজের চলে যাওয়ার দিনটি ঘিরে এই মানবসেবার পাশাপাশি শ্রদ্ধার আরেক নজির দেখা গেল পটুয়াখালীতে। ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পটুয়াখালী শাখা কার্যালয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ মাহফিল। সেখানে কোম্পানির প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান এবং ফারাজের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ফারাজ ছিলেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম লতিফুর রহমান ও শাহনাজ রহমানের নাতি এবং ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান ও মুহাম্মদ ওয়াকারের সুযোগ্য সন্তান। দিনটি পেরিয়ে গেলেও, মানুষের সেবার মাধ্যমে ফারাজের রেখে যাওয়া মানবিকতার বার্তা যেন নতুন করে প্রাণ পেল এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোর মধ্য দিয়ে।

স্বাস্থ্য ক্যাটেগরির আরো সংবাদ