২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ৩৫৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলা প্রথমপত্র ও সমমানের পরীক্ষায় এই অনুপস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা শিক্ষা প্রশাসন।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় মোট ২১ হাজার ৯৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২১ হাজার ৭৯১ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ২০৭ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ বিষয়ে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯৩৫ জন পরীক্ষার্থী, অনুপস্থিত ছিল ১০৪ জন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ১ হাজার ৬৬০ জনের মধ্যে ৪৩ জন অনুপস্থিত ছিল।
তবে জেলার কোথাও বহিষ্কারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান জানান, “সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।”
এদিকে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম বিড়ম্বনা ও মানসিক চাপে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট বাড়িয়ে বেলা ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রের তিনটি কক্ষে মোট ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে ভুল বুঝতে পেরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে নিয়ে সঠিক ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মেঘা ও সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বারবার বলার পরও শিক্ষকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেননি। অনেক সময় নষ্ট হওয়ার পর সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে, আবার সময় শেষ হওয়ার আগেই খাতা নিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবকরা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, “ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানার পর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”