আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদপ্রত্যাশী কমিশনার হারুন, আলোচনায় একাধিক নেতা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নতুন নেতৃত্ব গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক—এসব বিষয়কে সামনে রেখে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ও মতিঝিল এলাকার সাবেক কাউন্সিলর মোঃ হারুনুর রশিদ হারুন, যিনি ‘কমিশনার হারুন’ নামে পরিচিত, সভাপতি পদপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সক্ষমতা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে যাঁদের নাম আসছে

বর্তমান আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ হারুন এবং সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আ. ন. ম. সাইফুল ইসলাম, লিটন মাহমুদ, সাইদুর রহমান মিন্টু, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং যুবদলের মহানগর দক্ষিণের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় এসেছে। 

রফিকুল আলম মজনু: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রশ্নে তাঁর নাম আলোচনায় থাকা স্বাভাবিক। নতুন কমিটিতে তাঁর অবস্থান কী হবে, তা দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তানভীর আহমেদ রবিন: বর্তমান সদস্যসচিব হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। থানা, ওয়ার্ড ও বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রেখেছে।

মোঃ হারুনুর রশিদ হারুন: বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে তিনি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা। সভাপতি পদপ্রত্যাশী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন নেতৃত্বে তাঁর সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে পারে।

অন্যান্য সম্ভাব্য নেতা: আ. ন. ম. সাইফুল ইসলাম, লিটন মাহমুদ, সাইদুর রহমান মিন্টু এবং যুবদলের কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে কে কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কমিশনার হারুনের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান

বিএনপির ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক ও তানভীর আহমেদ রবিনকে সদস্যসচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ৬১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। ওই কমিটিতে হারুনুর রশিদ হারুনকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিশনার হারুনের সমর্থকদের মতে, মতিঝিল এলাকার রাজনীতি ও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সক্রিয় করতে হলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সমস্যাগুলো সরাসরি বোঝার সক্ষমতা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে হারুনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

হারুনুর রশিদ হারুনের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর দীর্ঘদিনের দলীয় সম্পৃক্ততা। তাঁর অনুসারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক মামলা, হয়রানি ও নানা চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।

হারুনের সমর্থকদের বক্তব্যে দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ত্যাগের মূল্যায়ন, অতীতের আন্দোলনে অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের অভিজ্ঞতা, নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সংকটে সহযোগিতা করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। তাঁদের মতে, নেতৃত্ব নির্বাচনে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতি হলে যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হারুন

সভাপতি পদে দায়িত্ব পেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত, আধুনিক ও জনসম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হারুনুর রশিদ হারুন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন—সাংগঠনিক সুদৃঢ়করণ, তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক রাজনীতি।

প্রথমত, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার করা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি। দ্বিতীয়ত, তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান।

তাঁর পরিকল্পনায় বেকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসেবামূলক কার্যক্রম চালুর বিষয়ও রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক সামর্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সমন্বয়ের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট। এখানে বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম সমন্বয় করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় দায়িত্ব। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতি পদে যিনিই দায়িত্ব পান, তাঁকে তৃণমূলের প্রত্যাশা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যেমন নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সহায়ক, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা, জবাবদিহি এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

কমিশনার হারুনের সমর্থকেরা মনে করেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা তাঁকে এ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে পারে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি পদে কমিশনার হারুনুর রশিদ হারুনের প্রত্যাশা এখন দলীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নের অপেক্ষায়। বর্তমান আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন

রাজনীতি ক্যাটেগরির আরো সংবাদ