আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

আটলান্টিকের ওপারেও প্রদীপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: নিউইয়র্কে ‘ম আ মুকতাদির স্মৃতি কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর আবেগঘন আড্ডা ও মতবিনিময়

মাটি থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে দেশের কথা ভাবলে বুকের ভেতরটা কেমন যেন টনটন করে ওঠে, তাই না? গত রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ভবনে ঠিক এই সুরটাই বাজে। প্রবাসের ব্যস্ত জীবন আর হাজারো যান্ত্রিকতার মাঝেও সেদিন সেখানে তৈরি হয়েছিল দেশের কথা, শেকড়ের কথা আর মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি রোমন্থনের এক আবেগঘন পরিবেশ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুকতাদির স্মৃতি কল্যাণ ট্রাস্টের এই বিশেষ মতবিনিময় সভাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মইনুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আব্দুল মান্নান এবং আটাবের সাবেক সভাপতি এম জব্বার জলিল।

সন্ধে সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক পর মুহূর্তেই যেন থমকে যায় চারপাশ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ যাবৎকালের সব গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে প্রাণ দেওয়া শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতা পালন করা হয়। একই সাথে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় নিউইয়র্কের আজীবন সদস্য সিলেট পুরসভার সাবেক কমিশনার প্রয়াত ফখরুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট আখতারউল ইসলাম ও নাজিম উদ্দিনসহ প্রবাসে পরপারে পাড়ি দেওয়া স্বজনদের।

অনুষ্ঠানের গোড়াতেই সাবেক ছাত্রনেতা ও সংগঠনের ট্রাস্টি শাহাব উদ্দীন খুব সুন্দর করে তুলে ধরেন ২০১৬ সালের যাত্র শুরুর গল্প। ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ট্রাস্ট কীভাবে আজকের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, তার চলমান কাজের অগ্রগতি, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তিনি সবার সামনে শেয়ার করেন।

নিউইয়র্ক ট্রাস্টের সভাপতি এমাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের সাবলীল পরিচালনায় পুরো সভাজুড়ে চলে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সচেতন নানা আলোচনা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মইনুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি আব্দুল মান্নান, আব্দুল জব্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস ও বোস্টন থেকে আসা ডা. শাফা খান বিল্লাহ প্রবাসের বুকে নিজেদের শেকড় ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সভায় যুক্ত ছিলেন প্রবাসের অনেক পরিচিত মুখ। ভাসানী ফাউন্ডেশনের আলী ইমাম শিকদার ও নাসির উদ্দীন, মূলধারার রাজনীতি ও লিগ্যাল কনসালট্যান্ট উকিল মুজিবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, আবুল হাসিব মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, জাসদ সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, শাহীন আজমল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালুমনাইয়ের তাজুল ইসলাম ও গাজী শামসুদ্দিন এবং ইয়ামিন রশীদ সহ আরও অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের চিন্তাভাবনা ভাগ করে নেন।

বক্তারা খুব আক্ষেপ করে বলছিলেন, “আমরা বারবার রক্ত দিই, কিন্তু দিনশেষে যেন প্রতারিত হই। আন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থানের আসল ফসল আমরা ঘরে তুলতে পারি না। কারণ একটাই দলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আমরা দেশের স্বার্থ ভুলে যাই। ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্র আর দলকে একাকার করে ফেলি।”

তাঁদের স্পষ্ট বার্তা ছিল, ভোগের রাজনীতি ছেড়ে এখন ত্যাগের রাজনীতি শিখতে হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থকে সবার ওপরে না রাখলে কোনো অর্জনই স্থায়ী হবে না। সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এক সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারলেই ম আ মুকতাদিরসহ সব শহীদদের আত্মা সত্যিকারের শান্তি পাবে।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে আগত প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। আড্ডা, রাজনীতি ও দেশপ্রেমের অপূর্ব এক মেলবন্ধন শেষে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে এক রাতের সান্ধ্যকালীন আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই প্রাণবন্ত আয়োজন।

প্রবাস ক্যাটেগরির আরো সংবাদ