আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

রাধাচূড়ার রঙে বদলে গেছে চেনা পথ

News Tarunner khobor
  • আপডেট টাইম :   সোমবার | নভেম্বর ২, ২০২৬ | ০৯:১৮ এএম
  • ১ বার
নিজস্ব প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের তালতলা এলাকা থেকে একটি পথ সোজা চলে গেছে মনু নদ প্রকল্পের বাঁধের রাঙাউটি হয়ে শমসেরনগর সড়কে। দুই পাশে ধানখেত, মাঝখানে সরু সড়ক। সেই সড়কের এক পাশে এখন সারি ধরে ফুটেছে লাল, হলুদ রাধাচূড়া। রাঙাউটি পর্যন্ত এক কিলোমিটারের কাছাকাছি পথটুকু এখন ফুলে ফুলে সেজে আছে। মনু নদ প্রকল্পের বড় বাঁধ থেকে পানির একটি নালা তালতলায় (একসময় এখানে তালগাছ ছিল, সেই থেকে নাম) এসে মিশেছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার এই নালার পূর্ব পাড়টি এখন একটি সংযোগ সড়ক। মাতারকাপনে মনু ব্যারাজ হয়ে এই সড়ক মৌলভীবাজার-কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার-শমসেরনগর—জেলার এই দুই প্রধান সড়ককে যুক্ত করেছে। প্রয়োজন না হলে এক সড়ক থেকে আরেক সড়কে এখন আর মৌলভীবাজার শহর ঘুরে যেতে হয় না। গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার তালতলায় গিয়ে দেখা গেল, সড়কের পশ্চিম পাশে সারি ধরে লাগানো ফুলের গাছ। কোথাও থোকা থোকা হলুদ ফুল বাতাসে দুলছে, কোথাও আবার লাল ফুলের সমারোহ। কিছু গাছে ফলও এসেছে। লম্বা শিমের মতো কাঁচা ফল সবুজ, পাকা ফলে খয়েরি রং ধরেছে। মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের তালতলা থেকে দক্ষিণে তাকালেই ফুলের এই নজরকাড়া রং চোখে পড়ে। যাঁরা একটু সময় নিয়ে হাঁটেন, তাঁরা ফুল ঘিরে ভ্রমরের ওড়াউড়ি আর গুঞ্জনও শুনতে পান। লোকমুখে প্রচলিত, টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়াকে তুলনা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরের পালকশোভিত চূড়া বা মুকুটের সঙ্গে। সেই ধারায় হলুদ, লালচে কমলা ও সোনালি রঙের ফুলটি হয়ে ওঠে রাধার অলংকৃত মুকুট বা অলংকার—রাধাচূড়া। সড়কের পূর্ব পাশে এখনো ঘন সবুজ। সেখানে পলাশ, শিমুল, সোনালুসহ আরও কিছু গাছ বড় হচ্ছে। ফুল ফোটার সময় হলে এগুলোও ডালপালা ফুলে ভরে তুলবে বলে। রাধাচূড়ার ছোট ছোট নতুন গাছেও কুঁড়ি আসছে। সড়কের পাশে রাঙাউটি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব গাছ লাগিয়েছে। দুই পাশের ধানখেত এখনো সবুজ, তবে ধান পাকতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও সোনালি রঙের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। রাধাচূড়া ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফুল। দেখতে অনেকটা কৃষ্ণচূড়ার মতো, তবে গাছ আকারে ছোট, ফুলের রঙেও ভিন্নতা আছে। নামের উৎস নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। তবে লোকমুখে প্রচলিত, শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকাহিনির সঙ্গে মিলিয়ে এই নাম দেওয়া হয়েছে। টকটকে লাল কৃষ্ণচূড়াকে তুলনা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের ময়ূরের পালকশোভিত চূড়া বা মুকুটের সঙ্গে। সেই ধারায় হলুদ, লালচে কমলা ও সোনালি রঙের ফুলটি হয়ে ওঠে রাধার অলংকৃত মুকুট বা অলংকার—রাধাচূড়া। রাধাচূড়ার ফুল ডালের আগায় লম্বা ডাঁটায় থোকা বেঁধে ফোটে। ফুলের সৌরভ নেই, তবে দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। এর আদি নিবাস মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয় নাবিকদের মাধ্যমে এর বীজ এশিয়ায় আসে, পরে তা ভারত উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। নাম বা ইতিহাস যা-ই হোক, তালতলা থেকে রাঙাউটি পর্যন্ত এই একটুরা সড়ক এখন রাধাচূড়ারই পথ। সবুজ পাতার ঝোপ ছাড়িয়ে লাল ও হলুদ ফুল সড়কটিকে রঙিন করে তুলেছে। এই পথ দিয়ে যাঁরা যান, তাঁদের একবার অন্তত ফুলের দিকে তাকাতেই হয়।

জাতীয় ক্যাটেগরির আরো সংবাদ