আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

সনদ অর্জনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‎

News Tarunner khobor
  • আপডেট টাইম :   সোমবার | নভেম্বর ২, ২০২৬ | ০৫:২৮ পিএম
  • ১ বার
নিজস্ব প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: আজকের পত্রিকা ‎বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল সনদ ও চাকরিভিত্তিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।‎ আজ ‎সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‎তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক হলে চলবে না। শিক্ষকতা ও গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী না করে কর্মসংস্থানভিত্তিক, দক্ষতানির্ভর ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। ‎স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বড় একটি অংশের জনশক্তি শিক্ষিত বেকারত্বের শিকার। শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়; শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, মেধা ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প নেই। ‎আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটা জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা করছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।‎ ‎বিশ্ববাজারে শিল্পকারখানা স্থানান্তর ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেন কেবল অন্য দেশের পরিত্যক্ত শিল্পের বিকল্প গন্তব্যে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। ‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেছিলেন শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ তৎকালীন ছাত্রনেতারা। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টি আবারও উত্থাপিত হয়। পরে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। ‎তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আগের সরকারের জনকল্যাণমূলক অনেক কাজের ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। তবে দেশের স্বার্থে একটি সরকারের শুরু করা ভালো কাজ পরবর্তী সরকারগুলোরও অব্যাহত রাখা উচিত। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।‎ ‎বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০০ একর জমির ওপর আবাসিক সুবিধাসহ নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ বিভিন্ন দাবির বিষয়েও তিনি অবগত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাবির নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন করা উচিত নয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যথাসময়ে দাবিগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‎‎তিনি আরও বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো শিক্ষা। যে জাতির লাইব্রেরি, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ যত বেশি, সে জাতির সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।‎ ‎আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এখন থেকেই তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে।‎ ‎বক্তব্যের শেষাংশে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

জাতীয় ক্যাটেগরির আরো সংবাদ