নিজস্ব প্রতিনিধিমানবিক সহায়তার আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি–এর চট্টগ্রাম ইউনিটে বহাল তবিয়তে আছেন ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কৃষ্ণ দাশ। ২০২১ সালে মেয়ে সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে বহিষ্কৃত হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি আবারও পদে বহাল হয়ে সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযুক্ত হওয়ায় কৃষ্ণ দাশকে রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম ইউনিট থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ২০২৩ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি কৃষ্ণ দাশকে পুনরায় রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমে যুক্ত করেন।
২০২৪ সালে যুব রেড ক্রিসেন্ট কমিটি গঠনের সময় কৃষ্ণ দাশকে সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়। এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ না হলেও মাত্র ৯ মাসের মাথায় কমিটি ভেঙে দিয়ে তাকে সভাপতি করে পুনর্গঠন করা হয়। নতুন সদস্য সংযোজন না করে পুরনো কমিটি নিয়েই অনুমোদন দেওয়া হয়, যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
রেড ক্রিসেন্টের নীতিমালা অনুযায়ী যুব কমিটিতে ১৫ জন সদস্য থাকতে হবে এবং বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কৃষ্ণ দাশ এই নিয়ম উপেক্ষা করে বয়সোর্ধ্ব ও বিবাহিত ব্যক্তিদের কমিটিতে রেখেছেন। ভিন্নমত পোষণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে তিনি একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সদস্য।
স্বেচ্ছাসেবকদের দাবি, ৫ আগস্ট পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশে ফ্যাসিস্টদের উৎখাত হলেও রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম ইউনিটে এখনো কৃষ্ণ দাশের প্রভাব অটুট। তিনি এখনো সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তদন্ত করা হতে পারে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্বেচ্ছাসেবকদের অভিযোগ, “কৃষ্ণ দাশ সংগঠনের মধ্যে ভয়ভীতি ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
মানবিক সেবার সংগঠন রেড ক্রিসেন্টে ফ্যাসিস্ট প্রভাব ও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের এই ঘটনা সংগঠনের সুনাম ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।