আল আমিন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৭টি হত্যা মামলাসহ ২৬ মামলার পলাতক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী শীর্ষ সন্ত্রাস সবুজ ওরফে কালাই সবুজসহ তার সহযোগী এজাজুল হককে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে রুপগঞ্জ থানা পুলিশ।
বুধবার রাতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঢাকা জেলার ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকা অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সবুজ ওরফে কালাই সবুজ রুপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মনগাঁও এলাকর কালাইয়ের ছেলে। ও তার সহযোগী এজাজুল হক উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মৃত শাহাদাতে ছেলে।
এ বিষয়ে রুপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, সে দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে জিম্মি করে পরিবার থেকে মুক্তিপণ নেয়াসহ বিভিন্ন খুন এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত চার মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের চেষ্টায় রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাস সবুজ ওরফে কালাই সবুজকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সবুজ ওরফে কালাই সবুজের নামে রুপগঞ্জ থানায় ৭টি হত্যা মামলাসহ মোট ২৬ টি মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন যাবত পলাতক থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলো।
পরবর্তীতে সবুজ ওরফে কালাই সবুজের দেওয়া তথ্য মতে তার সহযোগী এজাজুল হককেও রুপগঞ্জের রুপসি এলাকা থেকে প্রেফাতার করা হয়। সেও রুপগঞ্জ থানায় একাধিক মামলার আসামি।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর রূপগঞ্জের মাছিমপুরে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে জালালউদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম বাবুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মমিনুল ইসলাম ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: গ্রেফতারকৃত সবুজসহ মিজান, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল লতিফ, হানিফ, সোহেল, মিলন, সেলিম, গুলজার, লেদা ফারুক, রাসেল, মোমেন, সাদ্দাম, শাহীন, রুহুল আমিন, আবুল ও পণ্ডিত।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন: আবু, মাসুদ, মান্নান, শামীম, সোহেল ও দেলোয়ার। আবুল হাসেম ও শওকত মামলা চলাকালীন সময় মারা যান।
পরে জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা ২০১৫ সালের ১৪ মে নিহত নজরুল ইসলাম বাবুর পিতা জালালউদ্দিনকেও বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত জালালউদ্দিনের স্ত্রী সোহেলসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।