আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাইরে থেকে গাড়ি প্রবেশ নিষেধ, এক দিনেই জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি

News Tarunner khobor
  • আপডেট টাইম :   সোমবার | নভেম্বর ২, ২০২৬ | ০৫:২৮ পিএম
  • ১ বার
নিজস্ব প্রতিনিধি

বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন রকমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: পিটিআই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এদিন বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। মোট জরিমানার মধ্যে পিইউসি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি, দিল্লির সীমান্তে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২ লাখ রুপি এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজের কারণে সৃষ্ট দূষণের জন্য পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি আদায় করা হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ যানবাহনকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানে ১২৭টি চালান দেওয়া হয় এবং ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। ২ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনের মধ্যে ছিল ১৪০টি হালকা মোটরযান (এলএমভি), ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান (এলসিভি), ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান এবং ৩৪টি বাস। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে। পরিবেশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গন্তব্য দিল্লি নয় এমন ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহনও পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনো চালান দেওয়া হয়নি। সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ধরনের মোট ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে বৈধ পিইউসি সনদ ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ অভিযানে ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। পরিবহন বিভাগ দিয়েছে ৭৩টি চালান, যার বিপরীতে জরিমানার পরিমাণ ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি। নির্মাণ ও ভাঙার কাজের স্থান থেকে ছড়ানো ধুলা নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ৩২টিতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের মধ্যে ৫০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের বড় নির্মাণস্থল ছিল ৯১টি। এর মধ্যে ১৬টিতে নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিলেছে। বড় নির্মাণস্থলগুলোর ক্ষেত্রে দুটি কাজ বন্ধের নির্দেশ এবং চারটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪ লাখ রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ৫০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ২০৯টি ছোট নির্মাণস্থলের মধ্যে ১৭টিতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব স্থানের বিরুদ্ধে ১৫টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৫টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিদর্শন করা ৩০০টি নির্মাণস্থলের বিরুদ্ধে ১৭টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানের ওপর মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে। তবে ছাড় পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যানবাহন প্রবেশের বিধিনিষেধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ এবং নির্মাণকাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করছেন অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলো। তিনি লিখেছেন, ‘আজ ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়েছে, পিইউসি সনদ না থাকায় ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে এবং ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পিইউসি সনদ বৈধ রাখুন, প্রবেশের নিয়ম ও ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে চলুন। নির্মল বাতাস নিশ্চিত করতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’ বায়ুদূষণ মোকাবিলায় শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের যানবাহন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু অত্যাবশ্যকীয় জনপরিকাঠামো প্রকল্প ছাড়া ধুলা সৃষ্টি হয়—এমন সব ধরনের ভবন ভাঙা ও খোলা জায়গায় নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরগুলোতেও ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মীদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশকে সশরীর অফিস করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। বাকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। তবে অত্যাবশ্যকীয় ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

আন্তর্জাতিক ক্যাটেগরির আরো সংবাদ