নিজস্ব প্রতিনিধিরামগঞ্জ পৌরসভা-কেন্দ্রিক স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অভিজ্ঞ নেতা মোঃ কবির হোসেন পাটওয়ারী, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে “জি. এস কবির” নামেই অধিক পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে দলীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী জি. এস কবির ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ-এ ভর্তি হওয়ার পর তার রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। ১৯৮৭ সালে তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ১৯৮৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি একজন সংগ্রামী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৯২-১৯৯৩ সালে তিনি রামগঞ্জ সরকারি কলেজের নির্বাচিত জিএস হন, যা তাকে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার ধারাবাহিকতায় তিনি দ্রুতই তৃণমূলের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি রামগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নতুন কর্মী তৈরি করা এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক দুর্দিনে মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
ছাত্র রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জি. এস কবির যুবদল ও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দেশের রাজনীতির পাশাপাশি প্রবাসেও জি. এস কবির তার রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। বিশেষ করে ইউরোপে অবস্থানকালে তিনি বিএনপির সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফ্রান্স শাখা বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি প্রবাসী নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি সবসময় রামগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন এবং বিভিন্ন সময় আর্থিক ও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন। রাজনৈতিক দুর্দিনে অনেক নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর কারণেও এলাকায় তার প্রতি একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
এছাড়া তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম (ফ্রান্স শাখা)-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসে সরকারবিরোধী একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় তিনি গ্রেফতার হন বলে জানা যায়। এই ঘটনাটি প্রবাসী রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ফ্রান্সে একটি মামলায় জি. এস কবিরসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়। অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হলেও তার সমর্থকদের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তারা মনে করেন, প্রবাসে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে রামগঞ্জ উপজেলা-এর স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে ঘিরে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ তাকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার নাম নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।