নিজস্ব প্রতিনিধিদলীয় সরকার গঠনের পর এবার সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়াতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতোমধ্যে জেলা, মহানগর ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট—ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
সম্প্রতি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মতবিনিময় সভায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বছরে অন্তত তিনবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
হারুনুর রশিদ হারুন-কে আগামী কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে চায় তৃণমূলের একটি বড় অংশ। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।
তিনি মতিঝিল থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক কমিশনার হিসেবেও পরিচিত। নেতাকর্মীদের মতে, ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে তিনি মাঠে থেকেছেন। মামলা-হামলা, নির্যাতন ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হারুনুর রশিদ হারুন বর্তমানে সম্ভাব্য সিটি করপোরেশন প্রার্থীদের মধ্যেও অন্যতম আলোচিত নাম। কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার উন্নয়ন, জনসেবা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে তিনি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।
দক্ষিণের একাধিক ইউনিটের নেতাকর্মীদের দাবি, “হারুন ভাই দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণের রাজনীতিতে সক্রিয়। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। আমরা চাই আগামী পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাঁকে সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হোক।”
বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে তিনি শীর্ষ পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছেন।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তরে সাইফুল আলম নিরব-কে আহ্বায়ক এবং আমিনুল হক-কে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। পরে একই বছরের ৪ নভেম্বর সাইফুল আলম নিরবকে সরিয়ে আমিনুল হককে আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামান-কে সদস্য সচিব করা হয়।
অন্যদিকে দক্ষিণে রফিকুল আলম মজনু-কে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবিন-কে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, উত্তরে ইতোমধ্যে ২৬টি থানা ও ৭১টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণে ২৪টি থানার মধ্যে ২২টির কমিটি এবং ৮০টি ওয়ার্ড কমিটি কার্যকর রয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তার আগে ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিট ও অঙ্গসংগঠন ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কমিটিতে যেমন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি সাংগঠনিকভাবে দক্ষ তরুণ নেতৃত্বকেও সামনে আনা হবে। দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী যে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এদিকে ঢাকার দুই মহানগর বিএনপিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে সামনে আসছে। বিশেষ করে দক্ষিণে হারুনুর রশিদ হারুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।