নিজস্ব প্রতিবেদকঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল পিলারগুলোতে অঙ্কিত গ্রাফিতি প্রজেক্ট “জুলাই আর্ট ওয়ার্ক”-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
এই দেয়ালচিত্র কার্যক্রমে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের চিত্রমালা তুলে ধরা হয়েছে। “দেয়ালের ভাষা: স্মৃতি, প্রতিরোধ ও জনতার ইতিহাস” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিল্পীরা বাস্তবতা, স্মৃতি ও সংগ্রামের বয়ান রঙ-রেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এই গ্রাফিতিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দমন-পীড়ন, গুম, খুন, ভোট জালিয়াতি, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং নাগরিক অধিকারের হরণ-সহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ফুটে উঠেছে শহিদ আবরার, ফেলানি সহ বহু নিপীড়িত মুখাবয়ব—যারা আজ প্রতিরোধ ও গণচেতনার প্রতীক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন,
“এই গ্রাফিতিগুলো আমাদেরকে আওয়ামী স্বৈরশাসনের ভয়াল দিন এবং জনগণের সাহসী প্রতিরোধের ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে এসব দেয়ালচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন,
“ফ্যাসিবাদ ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গত এক বছরে অনেক রঙ ফিকে হয়ে গেলেও, জুলাইয়ের চেতনা আজও অমলিন।”
বিশ্লেষকদের মতে, “জুলাই আর্ট ওয়ার্ক” কার্যক্রমকে বিশ্বব্যাপী জনগণের প্রতিরোধশিল্পের ধারাবাহিকতায় একটি আধুনিক সংযোজন হিসেবে দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকার স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন, ফিলিস্তিনের দেয়ালে প্রতিবাদচিত্র, যুক্তরাষ্ট্রে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন কিংবা মায়ানমারে জান্তা-বিরোধী বিক্ষোভের চিত্রকলার মতোই এটি প্রতীকী প্রতিবাদের ভাষা।
উল্লেখযোগ্য যে, এতদিন ঢাকার মেট্রোরেল পিলারগুলো উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল, আজ তা হয়ে উঠেছে বিকল্প ইতিহাসের ক্যানভাস। ছাত্র-জনতা, তরুণ শিল্পী ও নাগরিক সমাজ নিজেদের ইতিহাস নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলেছে এই দেয়ালে। এটি কেবল একটি আর্ট প্রজেক্ট নয়—বরং একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও নান্দনিক আন্দোলনের জীবন্ত দলিল।