![]()
অনলাইন ডেস্ক
সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়, তিনটি পর্ব মিলিয়ে প্রায় ২২৬ কিলোমিটারের কঠিন পথ। সেই পথ পেরোতে সময় লাগল ৯ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান প্রতিযোগিতা শেষ করে বাংলাদেশের দ্রুততম পূর্ণদৈর্ঘ্যের আয়রনম্যানের রেকর্ড গড়েছেন মিশু বিশ্বাস।
১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান মেরিল্যান্ডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দেড় হাজারের বেশি অ্যাথলেট অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মিশু। নিজের বয়স শ্রেণিতে তিনি ১২তম এবং সব মিলিয়ে ১০১তম হয়েছেন।
মেরিল্যান্ডে মিশুর এই সময় বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্যের আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় আগের দ্রুততম সময়ের রেকর্ডও ভেঙেছে। একই দিনে ইতালিতে অনুষ্ঠিত আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় ১০ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ডটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ সামসুজ্জামান আরাফাত। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মেরিল্যান্ডে ৯ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে প্রতিযোগিতা শেষ করে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন মিশু। আগের রেকর্ডের চেয়ে তিনি ১৬ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড কম সময় নিয়েছেন।
তবে মেরিল্যান্ডের এই পথ সহজ ছিল না। প্রতিযোগিতার শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় মিশুকে। চপট্যাঙ্ক নদীতে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতারের সময় ছিল ঢেউ ও স্রোত। প্রতিকূল পানির কারণে সাঁতার পর্বটি কঠিন হয়ে ওঠে। এরপর ১৮০ কিলোমিটারের সাইক্লিং। রুটটি সমতল ও খোলা হওয়ায় পুরো পথজুড়েই বাতাসের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। সবশেষে ছিল ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটারের ম্যারাথন। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া দৌড়ের এই শেষ পর্বটিকেও কঠিন করে তোলে।
প্রতিযোগিতা শেষে মিশু বিশ্বাস বলেন, 'দিনটি অ্যাথলেটদের জন্য বেশ কঠিন ছিল।' সাঁতারে ঢেউ ও স্রোত, সাইক্লিংয়ে বাতাস এবং ম্যারাথনে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, সব মিলিয়ে পুরো প্রতিযোগিতায় তাঁকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।