নিজস্ব প্রতিবেদকজুলাই বিপ্লবের সময় আহত হওয়া ছাত্রদের আত্মনির্ভরশীলতা এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিকেএসপির তত্ত্বাবধানে “বিশেষ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প”-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাহবুব-উল-আলম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সচিব প্রথমেই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন,
“শহীদদের জীবন উৎসর্গ আমাদের জন্য একটি শিক্ষা—আমরা যেন ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে কাজ করি। তাদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়।”
তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ছাত্রদের জন্য দুইটি বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে—একটি বিকেএসপি পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং অন্যটি যুবদের জন্য আত্মরক্ষামূলক ‘সেলফ ডিফেন্স’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। সচিব আরও জানান,
“প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি ক্রীড়া বিভাগে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া আহতদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন খাতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
এই বিশেষ ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের তিনটি খেলায়—আর্চারি, টেবিল টেনিস ও শ্যুটিং—প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে চারজন করে মোট ১২ জন অংশগ্রহণকারীকে প্রথমে এক মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং এবং পরবর্তীতে আরও দুই মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে, তাদেরকে প্যারা অলিম্পিক বা স্পেশাল অলিম্পিক-এর জন্য প্রস্তুত করা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: মুনীরুল ইসলাম, “জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন”-এর সাধারণ সম্পাদক ও জুলাই বিপ্লবের শহীদ জননী শামসি আরা জামান, এবং সংশ্লিষ্ট তিনটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু আহত ছাত্রদের আত্মনির্ভরশীলতার পথই খুলে দিচ্ছে না, বরং এটি একটি বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবেও কাজ করছে—যেখানে তরুণদের আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্র কৃতজ্ঞ ও দায়িত্বশীল।