আজ -

সকালের মধ্যে ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা-১৭ আসনের পাঁচ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার চট্টগ্রামে আসছে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ আবারও ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ৪০ বস্তিঘর পুড়ে ছাই কুমিল্লা নামেই বিভাগ চাইলেন ড. খন্দকার মোশাররফ সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ বিএসএফের গুলিতে কৃষক আহত, পাল্টা ধরে আনা হলো ভারতীয় কৃষককে প্রিয় শিক্ষিকার অবসরে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন কোয়েল মল্লিক পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা হামলা’ মন্তব্যে ক্ষোভ মমতার এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৮ হাজার লিটার মজুত তেল উদ্ধার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণ ইরা   

মাদকের ভয়াল থাবা: আমাদের প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ বাঁচানোর দায়িত্ব সবার...

News Tarunner khobor
  • আপডেট টাইম :   মঙ্গলবার | জুন ৩০, ২০২৬ | ১০:৪০ পিএম
  • ৪০৫৯ বার
নিজস্ব প্রতিনিধি

মাদক আজ শুধু একটি ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজ ও দেশের জন্য একটি ভয়ংকর সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম—যারা আগামী দিনের দেশ গড়ার শক্তি। একটি পরিবারে একজন মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে শুধু সেই মানুষটি নয়, তার পুরো পরিবার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদকের কোনো দল নেই, কোনো ধর্ম নেই, কোনো শ্রেণি নেই। এটি ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম—সব জায়গায় আঘাত করতে পারে। তাই মাদককে কেন্দ্র করে একে অপরকে দোষারোপ না করে দলমত, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ আজ যে সমস্যাটি অন্যের ঘরে দেখা যাচ্ছে, আগামীকাল তা নিজের পরিবারেও ভয়ংকরভাবে আঘাত করতে পারে।

মাদক একজন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়। এটি একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে, একজন কর্মক্ষম মানুষের জীবনকে অন্ধকার করে দিতে পারে, একটি পরিবারের শান্তি কেড়ে নিতে পারে। মাদকের কারণে অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়তে পারে।

মাদক কেন আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে—তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক প্রবেশ, মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা, সচেতনতার অভাব, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি—সব বিষয়েই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা।

আমাদের সন্তানদের সময় দিতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে, ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন মাদকাসক্ত মানুষকে ঘৃণা নয়, বরং সঠিক চিকিৎসা, সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে, যাতে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

মনে রাখতে হবে, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কোনো এক ব্যক্তি বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার কাজ নয়। এটি পুরো জাতির দায়িত্ব। আমাদের আজকের সচেতনতা আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারে।

আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। কারণ একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানুষ, আর সেই মানুষকে রক্ষা করাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
গুলজার আহমেদ (দাদাভাই)


শিক্ষা ক্যাটেগরির আরো সংবাদ